ভূমিকা ও সারসংক্ষেপ
নবনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আড়াই মাস পূর্ণ হয়েছে এপ্রিলে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এপ্রিল শেষে প্রায় ৪০ শতাংশ সময় (৭৫ দিন) পেরিয়ে গেছে, বাস্তব অগ্রগতি শূন্যের কোঠায়। ক্রাইসিস ডকুমেন্টেশন সেন্টার- ক্রিডো রিফর্ম ওয়াচের অংশ হিসেবে প্রতি মাসে সংস্কারের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনে গণভোটের রায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার সম্পর্কিত ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে প্রকাশ করা হবে। একইসাথে প্রতি মাসে এসব সম্পর্কিত বিভিন্ন সংবাদের আর্কাইভ প্রকাশ করা হবে।
এপ্রিল মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ২০টি আদেশ কার্যকারিতা হারায়, যার মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কিত অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, দুদকের ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ইত্যাদি। সংসদে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। এতে বিরোধীদল থেকে ৫ জনের নাম চাওয়া হলে এখনই নাম দিতে অস্বীকৃতি জানায় বিরোধী দল। এ মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে এক অধিবেশনে বলেন, ‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সে জন্য আপস করে জুলাই সনদে সই করেছিলাম।’
ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের সংস্কার অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন ও নিউজ আর্কাইভ দেখুন এখানে।
সংস্কার অগ্রগতি: এপ্রিল ২০২৬-এর ঘটনাপ্রবাহ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই–বাছাই করে ০২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সংসদে প্রতিবেদন দেয় জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। কমিটি সুপারিশ করে যে মোট ২০টি অধ্যাদেশ এই অধিবেশনে পাস না করা হোক।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এই দুটিসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে (রহিত) সংসদে বিল আনার সুপারিশ করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। এ ছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়।
সংসদের বিশেষ কমিটিতে থাকা বিরোধী দলের এমপিরা এসব অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) জানিয়েছেন। গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে ভিন্নমত জানিয়েছেন সরকারদলীয় এমপি ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরও। তিনি এ-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার মতামত দিয়েছেন।
৪ এপ্রিলে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে’ ১১ দলীয় জোট মহাসমাবেশের আয়োজন করে। একই দিনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়।
৬ এপ্রিল জাতীয় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় জামায়াতের আমির বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল সংসদ থেকে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ৪ এপ্রিলের কর্মসূচির মধ্য দিয়েই রাজপথের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এরপর ৭ এপ্রিল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দল। এ কর্মসূচির মধ্যে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, সেমিনার ও বিক্ষোভ অন্তর্ভুক্ত আছে।
বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০টি অধ্যাদেশ সংসদের চলতি অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপিত না হওয়ায় ১০ এপ্রিল সেগুলো কার্যকারিতা হারায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বিল আকারে ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে এর সঙ্গে নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। এই ধারায় যা বলা হয়েছে, তাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে আলোচনা সভায় বলেন, বিএনপি সবার আগে জুলাই সনদে সই করেছিল এবং সেই সনদের ‘প্রত্যেকটি অক্ষর, শব্দ, লাইন’ বাস্তবায়ন করা হবে।
২৭ এপ্রিল সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ (অপ্রয়োজনীয়) বলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই ‘আননেসেসারি একটি জুলাই সনদ’ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে। এতে সংসদে হট্টগোল ও উত্তেজনা শুরু হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাইকে ‘আননেসেসারি’ বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর চিফ হুইপ জানান, ওই সদস্য বলেছেন তিনি ‘আননেসেসারি বিতর্ক’ বোঝাতে চেয়েছিলেন।
অধিবেশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, গণসংহতি আন্দোলন গত ২৮ জুলাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দিয়েছিল বলেও জানান দলটির তৎকালীন প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, আমরা কখনোই বলিনি– আমরা যা বলেছি তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা বলেছিলাম, ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া রূপান্তর নয়।
একই দিন প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে ‘বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার’ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ ধাপে ধাপে এবং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’ চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য।
৩০ এপ্রিল সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সে জন্য আপস করে জুলাই সনদে সই করেছিলাম।’ সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কারের জন্য শ্বেতশুভ্র কেশের আমার কিছু বড় ভাই বুদ্ধিজীবী বিদেশ থেকে অবতরণ করেছিলেন। তাঁরা মাথায় টুকরি ভর্তি করে অলৌকিক কিছু সংস্কার নিয়ে দেশে অবতরণ করলে পরে আমরা সংস্কার কমিশনে আলাপ–আলোচনা করতে করতে এই জুলাই জাতীয় সনদটা প্রণয়ন হয়েছে।’
তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ‘অবৈধ ও সংবিধানবহির্ভূত’ বলেন এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জানান, ডেপুটি স্পিকারের পদটি এখনো বিরোধী দলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ক নিউজ আর্কাইভ
১ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই আদেশকে প্রতারণা বলায় সংসদে বিতর্ক
৩ এপ্রিল, ২০২৬
অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে সরকার পতিত স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে: ইসলামী আন্দোলন | প্রথম আলো
কার্যকারিতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ | প্রথম আলো
জুলাই সনদ, গণভোট মানছে না বিএনপি
৪ এপ্রিল, ২০২৬
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সুপারিশ করায় অধিকারের ক্ষোভ | প্রথম আলো
সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা | প্রথম আলো
Key reform ordinances left to expire | The Daily Star
Opportunity for reforms slipping away once more | The Daily Star
আরও একবার হাতছাড়া হচ্ছে সংস্কারের সুযোগ | The Daily Star
৫ এপ্রিল, ২০২৬
সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান: কেউ সমালোচনায়, কেউ অপেক্ষায় | প্রথম আলো
দুদক, মানবাধিকার কমিশন নিয়েও আশা নেই
ড. ইউনূসকে রাজপথে নামতে বললেন নাহিদ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি সংসদে | প্রথম আলো
৭ এপ্রিল, ২০২৬
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি | The Daily Star
৮ এপ্রিল, ২০২৬
সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক জামায়াত জোটের
৯ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনে যাচ্ছে জামায়াতসহ ১১ দল | প্রথম আলো
১২ এপ্রিল, ২০২৬
পাস হলো ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ | প্রথম আলো
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস, পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ
১৪ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করব: প্রধানমন্ত্রী – শেয়ার বিজ
১৬ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই সনদ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখি না : স্পিকার
২২ এপ্রিল, ২০২৬
আটঘাট বেঁধে বড় আন্দোলনে নামার লক্ষ্য জামায়াতসহ ১১ দলের | প্রথম আলো
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ বলায় সংসদে উত্তেজনা, হইচই | প্রথম আলো
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর | প্রথম আলো
জুলাই সনদের আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংসদে হট্টগোল
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য : চিফ হুইপ | দৈনিক নয়া দিগন্ত
২৮ এপ্রিল, ২০২৬
২৯ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনে সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকারের | The Daily Star
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব, এখনই নাম দিচ্ছে না বিরোধী দল | প্রথম আলো
৩০ এপ্রিল, ২০২৬
ডেপুটি স্পিকারের পদটি এখনো বিরোধীদলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
