
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির উপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের একটি উদ্বেগজনক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। এই প্রতিবেদনে ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ — মাত্র ২৩ দিনের ব্যবধানে — ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে কমপক্ষে ৫টি ঘটনায় ৬জন ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন জামায়াত কর্মী, একজন ব্যবসায়ী, একজন যুবলীগের নেতা, উক্ত যুবলীগ নেতার স্ত্রী এবং একজন অ্যাক্টিভিস্ট। অর্থাৎ আটককৃতরা কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদালত অবমাননা ছাড়া বাকি ৪টি ঘটনায় কোনো মামলা ও পরোয়ানা ছাড়াই আটক করা হয়। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার (বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার) ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ব্যবহারও দেখা যায়।
দুটি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ও একটি ঘটনায় চিফ হুইপের বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে আটক/গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। তবে এর মধ্যে কোনোটিতেই যার বিরুদ্ধে পোস্ট, তিনি বা তাঁর দ্বারা লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মামলা বা অভিযোগ করেনি, বরং দলীয় নেতারা এসব অভিযোগ এনেছেন।
আদালত অবমাননার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর পোস্টে লাইক, ‘অবমাননাকর মন্তব্য’ ও শেয়ারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা যায়। সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের জন্য আইনী ব্যবস্থা না হলেও লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নজির স্থাপন করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন ড্রাইভ লিংক থেকে ডাউনলোড করুন।
